এই মুহূর্তে

সোমবার | ২০ নভেম্বর, ২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৯ সফর, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » কক্সবাজারে লাশের মিছিল দীর্ঘ হলেও অবিচারে চলছে পাহাড় কাটা

কক্সবাজারে লাশের মিছিল দীর্ঘ হলেও অবিচারে চলছে পাহাড় কাটা

কক্সবাজারে লাশের মিছিল দীর্ঘ হলেও অবিচারে চলছে পাহাড় কাটা

বাপ্পি শাহরীয়ার : পর্যটন শহর কক্সজারের একের পর এক প্রাণহানি ও সম্পদহানির পরও থেমে নেই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা। পাহাড়খেকোরা পাহাড় কেটে পাহাড়ী এলাকায় নির্মাণ করছে নিত্য নতুন স্থাপনা। এদিকে ১৫ জুন কক্সবাজার জেলায় ভয়াবহ পাহাড় ট্রাজেডির ৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১০ সালের এই দিনে ভোরে জেলার হিমছড়ি, উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও মহেশখালীতে একযোগে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ৬ সেনা সদস্যসহ নিহত হয়েছিল ৫৪ নারী-পুরুষ।

image_24761_0

এছাড়া বছর জুড়ে কোন না কোন উপজেলা কিংবা ইউনিয়নের পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে জেলার পাহাড়ী এলাকায় বাস করছে হাজার হাজার মানুষ।

বন বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ১০ হাজার একরের বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে করে লোকজন বসবাস করছেন। আর ওই বসবাসকারিরা বর্ষার মৌসুমে নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় নানা কৌশলে চলছে পাহাড় কাটা। শহরের ঘোনার পাড়া, মোহাজের পাড়া, বৈদ্যঘোনা, বইল্যাপাড়া, জাদি পাহাড়, খাজা মঞ্জিল এলাকা, বাদশাঘোনা, ফাতেরঘোনা, ইসলামপুর, হালিমা পাড়া, লাইট হাউজ পাড়া, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, আবু উকিলের ঘোনা, রহমানিয়া মাদ্রাসা এলাকা, পাহাড়তলী, বাঁচা মিয়ারঘোনা, হাশেমিয়া মাদ্রাসার পেছনে, সাহিত্যিকা পল্লী, বিডিআর ক্যাম্পের পিছনে, লারপাড়া, সদর উপজেলা কার্যালয়ের পিছনে, পাওয়ার হাউস, লিংকরোড, কলাতলী বাইপাস সড়কের দুই পাশের বিশাল পাহাড়ী এলাকা, হিমছড়িসহ জেলা শহরের বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় পাহাড়কাটা চলছে। পাহাড় কেটে সমতল করে বসতি নির্মাণ করছে। ফলে পাহাড় কাটার কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ওইসব এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাসবাস করে আসছে লক্ষাধিক পরিবার।

পরিসংখ্যান মতে, ২০১০ সালের ১৫ জুন ভোরে টানা বৃষ্টির কারণে জেলাব্যাপী ব্যাপক জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে রামু উপজেলার হিমছড়ি এলাকার ১৭ ইসিবি সেনা ক্যাম্পে মারা গেছেন ৬ সেনা সদস্য। টেকনাফে মারা গেছে ৩৩ জন। উখিয়ায় ৯ জন ও হিমছড়িতে ৬ জন ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় মারা গেছে ২ জন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মারা গেছেন একই পরিবারে ৪ জন। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে স্মরণ কালের ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় প্রাণ দিতে হয়েছিল ৩৩ জনকে। সে মর্মান্তিক ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলেও টেকনাফসহ জেলার পাহাড়ী এলাকায় চলছে পাহাড় কাটার ধুম। এ ধরনের করুন ও মর্মান্তিক পাহাড় ট্র্যাজেডির পরও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের

সচেতন করার জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।download

২০১০ সালের ১৪ জুন সকাল থেকে রাতভর টানা বর্ষণ স্থায়ী হয়ে ১৫ জুন ভোর রাতের দিকে ভূ-কম্পন হলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা প্রবল আকার ধারণ করে। এতে জেলার অন্যান্য স্থানের মত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদরে পাহাড় ধ্বসে পাদদেশে বসবাসরতদের বসত-বাড়ির উপর পাহাড় ধ্বসে পড়লে ঘুমিয়ে থাকা বিভিন্ন পরিবারের অসংখ্য লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়ে। উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন মাটির নিচে চাপা পড়া ৩৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

এদের মধ্যে ছিল টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়ার ফকিরামুরা ও রুমজুরা নামক এলাকার ৩ পরিবারের মোঃ হাসেমের মেয়ে কুলসুমা আকতার (৭), নুর কলিমা (৩), আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩০), পুত্র আব্দুর রাজ্জাক (১১), মেয়ে শিউলি আক্তার (৮), শামীমা আক্তার (৫), মোহাম্মদ শফির স্ত্রী বেলুজা খাতুন (৩০) ও শিশু পুত্র পুতিন্ন্যা (২), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া (মুরা পাড়া) এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩৫), লায়লা বেগম (২৮), নাছিমা আক্তার (৫), ১০ মাসের শিশু পুত্র নুরুল আবছার, রঙ্গিখালী কোনার পাড়া এলাকার সোলতান আহমদের পুত্র প্রতিবন্ধী নুরুন্নবী (২৫), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলীর সাবেক ইউপি মেম্বার কবি আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী নাজমা (৩৫), ২ সন্তান আব্দুল্লাহ ফায়সাল (১৫), ইমতিয়াজ হাসান (২), দিলীপ বড়ুয়া (৪২), স্ত্রী সেবিকা বড়ুয়া (৩২), মুজিবুর রহমানের ২ সন্তান শাবনুর (৩), সাঈদুর রহমান (১), হোয়াইক্যং এর নজির আহমদের বাড়ীতে বেড়াতে আসা সিলেট বামই হবিগঞ্জ এলাকার মুজিবুল হক (৪২), আব্দুল জব্বার প্রকাশ কালূ খলিফা (৮০), তার পুত্রবধু দেলোয়ারা (২৬), নাতী ইব্রাহীম (৩), কাটাখালীর কবির আহমদের পুত্র মো: আলম (৪), কেরুনতলী এলাকার ছৈয়দ আলমের পুত্র (১৪), সরোয়ারের স্ত্রী মরিয়ম (৪০), পুত্র সন্তান গোলাম আকবর (১০), আলী আকবর (১২), কন্যা মর্জিনা (১২), লম্বাবিল এলাকার রশিদ আহমদের স্ত্রী সাবেকুন্নাহার (২৫), কন্যা ইসমত আরা (৩) এবং ওমর মিয়া (৪০)। আগামীতে প্রবল বর্ষণ শুরু হলে আরো প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। তাই এ জাতীয় দূর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করা জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড় কাটার কারণে নিহতের তালিকা হলেও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছেন জেলার ৮ উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক পরিবার।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল জানান, বর্ষার শুরুতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত মানুষদের সরাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বনবিভাগের সমন্বয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কাউকে থাকতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অপসারণ করা হবে বলে ১০ জুন এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

১টি মন্তব্য

  1. কক্সবাজারের পাহাড় কেটে সাভাড় করার ঘটনা আজ নতুন নয়। এটি একটি কক্সবাজার জেলার মানুষের প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে। এই রকম তথ্য বহুল সংবাদ প্রেরণের জন্য বাপ্পি ভাইকে আমার আন্তরের অন্তর স্থল থেকে জানায় ধন্যবাদ। এর আগেও মানব প্রচার নিয়ে একটি প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন, তা পুরু কক্সবাজারে আলোচনার ঝড় উঠে।
    আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন