Azizul Bashar
আবাসন খবর

শনিবার | ১৮ আগস্ট, ২০১৮ | ৩ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৬ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » আবাসন খবর » স্ট্রাকচার প্ল্যান’ তৈরির কাজ চলছে

স্ট্রাকচার প্ল্যান’ তৈরির কাজ চলছে

স্ট্রাকচার প্ল্যান’ তৈরির কাজ চলছে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃৃপক্ষের (রাজউক) ২০ বছরের জন্য দিকনির্দেশনামূলক ‘স্ট্রাকচার প্ল্যান’ তৈরির কাজ চলছে। জানিয়েছেন, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো.সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রণীত স্ট্রাকচার প্ল্যানের মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে। আগামী ২০ বছরের জন্য নতুন স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন প্ল্যানটি ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

এই পরিকল্পনাবিদ বলেন, টাউন ইমপ্রুভমেন্ট আইনের ৭৩ ধারার ২ ও ৩ উপধারা অনুযায়ী বর্তমানে স্ট্রাকচার প্ল্যান সম্পর্কে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ৬০ দিন শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মতামত নেওয়া হবে। এই ৬০ দিনে প্রাপ্ত মতামত বিচার-বিশ্লেষণ করে স্ট্রাকচার প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, নগর পরিকল্পনার নীতিগত পরিকল্পনা হলো স্ট্রাকচার প্ল্যান। এটা অনুসরণ করে বিস্তারিত পরিকল্পনা বা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) তৈরি করা হয়। স্ট্রাকচার প্ল্যান চূড়ান্ত হলে রাজউকের আয়তন ৯৬ বর্গকিলোমিটার বেড়ে ১৬২৪ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়াবে।

যোগ হওয়া নতুন এলাকাটির নাম ধামসোনা ইউনিয়ন। এটা সাভারের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ (ইপিজেড) অঞ্চল। বর্তমান স্ট্রাকচার প্ল্যানে রাজউক আরএস রেকর্ডের মৌজা রয়েছে ১১৫৬টি। আর নতুনটিতে মৌজা থাকবে ১১৯৫টি।

তিনি বলেন, নতুন স্ট্রাকচার প্ল্যানে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজউক এলাকার কোথায় কোন ধরনের স্থাপনা থাকবে, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা কোথায় থাকবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণের সুপারিশও আছে এ পরিকল্পনায়।

প্রণীত স্ট্রাকচার প্ল্যানের আওতায় থাকছে চারটি সিটি করপোরেশন-ঢাকা উত্তর,ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর। পৌরসভা রয়েছে পাঁচটি- ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের তারাব, কাঞ্চন ও সোনারগাঁও (আংশিক) ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ (আংশিক)।

১৯৯৫ সালে যখন স্ট্রাকচার প্লান প্রণয়ন করা হয় তখন আওতাভুক্ত এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৭১ লাখ। ২০১৫ সাল নাগাদ জনসংখ্যার টার্গেট ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এবার ২০৩৫ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার টার্গেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ।

জানা গেছে, নতুন স্ট্রাকচার প্ল্যানে ঢাকা মহানগরীর বাইরে তিনটি রিংরোড তৈরির কথা বলা হয়েছে। এসব রিং রোডের একটি হবে টঙ্গী-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ নদীর তীর ঘেঁষে। বর্তমান স্ট্রাকচার প্লানেও এই রিংরোডের উল্লেখ রয়েছে। তবে রাজউক তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

দ্বিতীয় রিংরোড হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর থেকে গাউসিয়া, কাঞ্চন, পূর্বাচল (ঢাকা বাইপাস), গাজীপুরের গাছা, আশুলিয়া, বাইপাইল ও সাভার হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ক্রস করে কেরানীগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, তেঘরিয়া ও কোন্ডা হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাবেক কদমরসুল পৌরসভা হয়ে মদনপুর পর্যন্ত।

তৃতীয় রিংরোডটি হবে সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর থেকে কালিগঞ্জ,বারিয়া ইউনিয়ন, গাজীপুর সদর, বাসন, ইপিজেড (ধামসোনা), নয়ারহাট, বংশী নদীর পাড় দিয়ে সভার টেনারি শিল্প এলাকার পাশ দিয়ে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর পর্যন্ত।

তিনটি রিংরোডের দৈর্ঘ হবে ২৫৬ কিলোমিটার। রিংরোডের জন্য কয়েকটি নদীর ওপর অন্তত চারটি সেতু নির্মাণ করতে হবে। স্ট্রাকচার প্ল্যানে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পর্যন্ত৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ৫৫০ কিলোমিটার প্রাইমারি রোড ও ২০২ কিলোমিটার সেকেন্ডারি রোড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন স্ট্রাকচার প্ল্যানে চারটি বাস টার্মিনাল, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জে তিনটি ক্যাম্পাস টাউন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলায় ভারী শিল্প এলাকা, রাজধানীর ভেতর কড়াইল বস্তি ও কারওয়ান বাজারে আইটি শিল্প পার্ক, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ঢাকার সাভার ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চামড়া শিল্প পার্ক ইত্যাদির প্রস্তাব করা হয়েছে।

চারটি প্রতিষ্ঠান এ স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ কোরিয়ার সামান করপোরেশন ও হ্যান-এ-আরবান রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশের শেলটেক (প্রা লিমিটেড ) ও ডেভ কনসালটেন্ট লিমিটেড। উল্লেখ্য, এবারের স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন