মুক্ত আলোচনা

সোমবার | ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৪ পৌষ, ১৪২৪ | ২৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » মুক্ত আলোচনা » শিক্ষকদিবসে ‘শিক্ষক’ সচিন

শিক্ষকদিবসে ‘শিক্ষক’ সচিন

শিক্ষকদিবসে ‘শিক্ষক’ সচিন

ভারতীয় ক্রিকেটে আর এক অনন্য সম্মান পেতে চলেছেন সচিন তেন্ডুলকর! কেরালায় একটা আস্ত স্টেডিয়ামের নামই হতে চলেছে তাঁর নামে!

কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে একটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে সচিনের নামে। কিন্তু সচিনকে নিয়ে দক্ষিণী রাজ্যের সচিন-আবেগ এমনই যে, কেরালা ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট টিসি ম্যাথু জানিয়ে দিয়েছেন, কেরালায় শীঘ্রই নতুন কোনও স্টেডিয়াম হতে চলেছে খোদ সচিনের নামে। ইঙ্গিত রয়েছে, ওয়ানাডের কৃষ্ণগিরি স্টেডিয়ামের নাম বদলে হতে পারে সচিনের নামে। এ মাঠেই সম্প্রতি ভারতীয় ‘এ’ টিম খেলল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’-র বিরুদ্ধে। এ দিকে শিক্ষক দিবসে কোচির এক অনুষ্ঠানে এসে প্রকৃত শিক্ষকের ভূমিকায় সচিন। যেখানে কৌশলে তামাকজাত দ্রব্য এবং মদ্যপানের প্রলোভন থেকে সরে থাকা থেকে জীবনে কী ভাবে সফল হওয়া যায়, তা-ও বললেন তরুণ ক্রীড়াবিদদের।

তিন দশক ধরে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু তিনি কোনও দিনই তামাকজাত দ্রব্য বা মদের বিজ্ঞাপন করেননি বলে দাবি করলেন সচিন। তাঁর কথায়, ‘আমার বাবা একটা কথা বলেছিলেন। কখনও তামাকজাত দ্রব্য এবং মদের বিজ্ঞাপনে কাজ না করতে। তাই এই দুই ধরনের বিজ্ঞাপনে আমি কোনও দিন কাজ করিনি।’

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থার এক অনুষ্ঠানে এর পর তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে সচিনের টোটকা, ‘নিজের লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত হাল ছেড়ো না। এমনটা সব সময় হয়নি যে, আমি ব্যাট হাতে নেমেছি আর সাফল্য পেয়েছি। বরং, এমন বহুবার হয়েছে, যেখানে আমি ব্যর্থ হয়েছি।’ সঙ্গে জুড়ে দিলেন, ‘আমি যখন ক্রিকেট খেলেছি, তখন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। আমি যাঁদের বিশ্বাস করি, এমন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেই সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমিও উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সেই পরামর্শ দেব।’

নিজের প্রস্ততি নিয়ে মাস্টার ব্লাস্টারের বক্তব্য, ‘যখন সাফল্য আসছে না, তখন অনেক পরিশ্রম করেছি। কখনও একটা ধাপ সরে এসেছি। এর পর আবার সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেছি। কখনও যদি মনে হয়, পরিশ্রম করতে গিয়ে আর পারছ না, তখনও হাল ছাড়বে না। সাফল্যের কোনও শর্টকাট পথ নেই। তুমি কোন পেশায় রয়েছ, তা বড় কথা নয়। যে কাজটাই কর না কেন, সেখানে শর্টকাট রাস্তা খুঁজলে চলবে না।’

নিজের বক্তব্য আরও একটু বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সচিন বলেন, ‘ধরা যাক তুমি ক্রিকেট খেলো এবং রান করতে ভালোবাস। তা হলে তোমার ক্রিকেট খেলাটাই উচিত। কিন্তু এটা করতে গিয়ে দেখবে অনেক বাধা আসছে, চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছ। সে ক্ষেত্রেও পালিয়ে যাবে না। এই প্রতিবন্ধকতা প্রতিটা পেশাতেই রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ কী ভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেটা ভাবো। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।’

ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে বলছেন, ‘আমার কাছে খেলাধুলা ছিল জীবনের সবকিছু। এই খেলাধুলো আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হল নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘ফোকাসড’ থাকার শিক্ষা। খেলাধুলো হাসতে শেখায়, তাই আমি তোমাদের সামনে হাসতে পারি।’

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন