Azizul Bashar
শিশুদের পাতা

বৃহস্পতিবার | ১৬ আগস্ট, ২০১৮ | ১ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৪ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » জীবন যাপন » শিশুদের পাতা » ভিডিও গেম কতটা খারাপ?

ভিডিও গেম কতটা খারাপ?

ভিডিও গেম কতটা খারাপ?

বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের ভিডিও গেম খেলা নিয়ে এতদিন বড়ই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই খেলার প্রতি তাদের মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি দেখে ভেবে ছিলেন এদের ভবিষ্যত্‍ অন্ধকার। বাস্তবে যে তা নয়, সেটা এবার হাতে-কলমে প্রমাণিত হল…

আওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভিডিও গেম নিয়ে একটা চমৎকার সমীক্ষা চালিয়েছে সম্প্রতি। প্রায় ৭০০ জন মানুষ যাঁদের বয়স ৫০-এর বেশি, তাঁরাই ছিলেন এই সমীক্ষার আওতায়। সমীক্ষা শেষে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে গড়ে দু-ঘণ্টার মতো এমন মাথা-ঘামানো ভিডিও গেম খেললে মানসিক অবক্ষয় কম হয়। এমনকী বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম কাজের দক্ষতা হ্রাসও কম হয়ে ওঠে যদি এমন খেলা নিয়মিত খেলা যায়।

একদল যুবককে টানা আট সপ্তাহ ধরে দু-ভাগে ভাগ করে দু-ধরনের খেলা খেলতে দেওয়া হয়েছিল। একদল কম্পিউটারে খেলছিল ক্রসওয়ার্ড পাজল, আর অন্য দল খেলছিল ‘রোড ট্যুর’-এর মতো জম্পেস ভিডিও গেম। দেখা গেল দ্বিতীয় দলের মানসিক ক্ষমতা এর মধ্যেই অনেক বেড়ে গিয়েছে। এ-প্রসঙ্গে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জেসন অ্যালেয়ার বলেছেন, ‘কেউ যখন এমন কাজ করেন যেখানে মানসিক ক্ষমতার প্রয়োজন, তখন তার পেশির একধরনের ব্যায়াম চলতে থাকে এবং তাতেই সে মানুষটি আরও বেশি কর্মক্ষম হয়ে ওঠেন।’

পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে ভিডিও গেম খেললে বাচ্চাদের মস্তিষ্কের গন্ডগোল হয় এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। সাত থেকে তেরো বয়সী দু-দলের বাচ্চাদের দু-রকম ভিডিও গেম খেলতে দেওয়া হয়েছিল। এক দলের দায়িত্বে ছিল ‘রেম্যান রেভিং র্যাবিডস’ আর অন্য দলের দায়িত্বে ছিল একটু কম টেম্পোর অন্য খেলা। দেখা গেল যারা বেশি মাত্রার অ্যাকশন গেম খেলছিল, তাদের বই পড়ার দক্ষতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সমীক্ষার আরও গভীর ফলাফল হল যে সব বাচ্চার ডিসলেক্সিয়া আছে, ভিডিও গেম তাদের সারিয়ে তুলতে পারে।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল বিভাগ বছর দুয়েক আগে তিন দল ছাত্রদের নিয়ে এক সমীক্ষা চালিয়ে ছিল। একদল হাইস্কুলের ছাত্র, আরেক দল কলেজ ছাত্র আর তৃতীয় দল মেডিক্যাল ছাত্র। তাদের এমন এক খেলা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রয়োজন ভার্চুয়াল সার্জারির। দেখা গিয়েছে যে সব হাইস্কুলের ছাত্ররা দিনে দু-ঘণ্টা ভিডিও গেম খেলে, এই ভার্চুয়াল সার্জারিতে তারা সব চেয়ে এগিয়ে, এমনকী ডাক্তারি ছাত্রদের চেয়েও। যাঁরা এই সমীক্ষা করেছেন তাঁরা বিশ্বাস করেন ভালো সার্জেন হতে গেলে অবশ্যই খেলার চেয়ে প্রয়োজন বেশি লেখাপড়ায়, কিন্ত্ত যাঁরা লেখাপড়া করেন তাঁরাও যদি সপ্তাহে অন্তত তিনঘণ্টা ভিডিও গেম খেলেন তাহলে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে ভুলের পরিমাণ অনেক কমে যায়।

আমেরিকান পেন সোসাইটির এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভিডিও গেম খেললে দুশ্চিন্তা দূর হতে পারে, কমিয়ে দিতে পারে শারীরিক যন্ত্রণা এবং ক্রনিক ব্যাধির উপশমও ঘটাতে পারে। আরও জানা গিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের সারিয়ে তুলতে ভিডিও গেমের জুড়ি নেই।

অতএব, এরপরে যদি আপনার বাচ্চার ভিডিও গেম আসক্তি নিয়ে সামান্যতম দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, তাহলে জেনে রাখবেন সেই দুশ্চিন্তা অমূলক।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন