সম্পাদকীয়

শুক্রবার | ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৭ সফর, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » সম্পাদকীয় » জঙ্গিবাদ নির্মূলই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

জঙ্গিবাদ নির্মূলই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

জঙ্গিবাদ নির্মূলই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

বিজয়ের ৪৫ বছর পার করছি আজ আমরা । আমাদের অর্জনের ঝুলি কম নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন আর অন্যান্য স্বাধিকার আন্দোলনগুলো বাঙালী জাতিকে গৌরাবান্বিত করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সবচেয়ে বেশী গৌরাবান্বিত করেছে আমাদের তরুন প্রজন্মকে। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তারা বিজয়কে দেখেছে খুব কাছ থেকে বিজয় দিবসে। প্রতিবছর ২৬শে মার্চ এলে আমাদের মধ্যে যুদ্ধ জয়ের আকাঙ্খা তীব্র হয়ে ওঠে। নতুন প্রত্যয়ের জন্ম নেয়। কারণ আমরা বীরর জাতি। আমরা যুদ্ধ করে বিজয়কে ছিনিয়ে এনেছি মাত্র নয় মাসে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটা বিরল। এ অর্জনকে আমরা তরুন প্রজন্ম কেমন করে অনুভব করছি তার উপর নির্ভর করছে বিজয়ের প্রকৃত অর্জনের মাহাত্ম্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কি শুধু অস্ত্রের বিজয় ছিল নাকি জাতীয়তাবাদের বিজয় ছিল সে বিষয়ে গভীর উপলব্ধি জাগিয়ে তুলতে হবে তরুন প্রজন্মের মধ্যে। একটি যুদ্ধ অনেক বিষয় বিশ্লেষনের দাবী রাখে। যুদ্ধ জয়ের পিছনে যে রাজনৈতিক মতাদর্শ কাজ করে তার প্রভাব যেন জাতিকে বিভক্ত না করে ফেলে সে বিষয়ে তরুন প্রজন্মকে সর্তক করে তোলা আমাদের প্রবীন রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব বলে মনে করি। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, আমজনতা যে দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার পিছনে ছিল কেবলই দেশপ্রেম। যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি কিন্তু পিছন থেকে যুদ্ধকালীন সময়ে সহযোগিতা করেছে তাদের ত্যাগও কম নয়। মুক্তিযুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের ভূমিকাকে যেন রাজনৈতিক ফলাফলের বিচারে খাটো করে না দেখি। স্বাধীন দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান থাকবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সেটাই স্বাভাবিক। তবে মুক্তিযুদ্ধে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের ত্যাগের মহিমাকে যেন দলীয় ব্যানারে মূল্যায়ন করা না হয়। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ‍জীবনদানকারী আপামর জনগণকে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে কোন একটি দল নেতৃত্ব দিবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে আমাদের বিজয় কোন একক দলের সম্পত্তি নয়। বিজয়ের ৪৫ বছরে সকল নিরীহ জনগণের আত্মত্যাগ গৌরাবান্বিত হবে যদি আমরা সবাই তাদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারি। দেশের উন্নয়নে সবাই মিলেমিশে কাজ করতে পারি। বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটেছে তার স্বীকৃতি আমরা অর্জন করি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে। আজ আমরা গর্ব করে বলতে পারি আমরা বাংলাদেশী। সে গর্ব করে বলার সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে যখন আমরা সবাই জাতীয় ইস্যুগুলোতে দলমতের উর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক পরিধি কেবল দেশের সীমানায় আটকে নেই। বিশ্বায়নের যুগে জাতীয়তাবাদের চেতনাকে দেশের সীমানায় বন্দি করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিকতাবাদের সাথে জাতীয়তাবাদের চেতনার মিশ্রন ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করতে হবে। তবে বিশ্বায়নের স্রোতে গা ভাসিয়ে  জঙ্গিবাদের মত মরণব্যাধি যেন জাতিকে বিশেষ করে তরুন প্রজন্মকে ধ্বংস না করে দেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয় । প্রতিটি পরিবারকেও জঙ্গিবাদ সর্স্পকে সচেতন হতে হবে। যেমন করে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ঘরে ঘরে দূর্গ তৈরি করা হয়েছিল সামর্থ্য অনুসারে বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আজকের তরুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এই ধ্বংসের পথ থেকে ফিরানোর জন্য। বিজয় দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তাহলেই বিজয় দিবস উদযাপন স্বার্থকতা লাভ করবে। শান্তি পাবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা। আমরা তোমাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি প্রতিটি বিজয় দিবসে। কারণ তোমরা মহান। আমরা তোমাদের পথ অনুসরণ করতে চাই। তোমাদের মত করে যেন দেশকে ভালবাসতে পারি এটাই হোক আমাদের সবার প্রতিজ্ঞা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন