Azizul Bashar
অমর একুশে

বুধবার | ১৫ আগস্ট, ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪২৫ | ৩ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অমর একুশে » ‘রূপালী জলের করাত’

‘রূপালী জলের করাত’

‘রূপালী জলের করাত’

চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭। গ্রন্থমেলার ১৮তম দিনে প্রকাশিত হয়েছে কবি ও সাংবাদিক শেখ সামসুল হক’র চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘রূপালী জলের করাত’। ‘রূপালী জলের করাত’ এর প্রছদ পরিকল্পনা করেছেন কবি রীনা তালুকদার। চার ফর্মার এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ।  বইটি পাওয়া যাচ্ছে গ্রন্থমেলার চয়ন প্রকাশন-৪৭০ এবং অভ্র প্রকাশ-৪০৯ নম্বর স্টলে। বইয়ের মূল্য ধরা হয়েছে ১৮০ টাকা।

প্রকাশক মোহাম্মাদ আব্দুর রহিম বলেন, -এর আগেও এই কবির রমনীয় স্বাধীনতা নামে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছি। এছাড়া চমৎকার সাহস ও যাই ফিরে যাই দুটি কাব্যগ্রন্থ দ্বিতীয় মুদ্রণ করেছি ২০১৫ সালে। প্রায় ষাটের দশক থেকে তিনি কবি, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক। তিনি কবিতা লেখা ও সাংবাদিকতা ও সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। মাঝখানে কিছু সময় সরকারী চাকুরীতে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি লেখালেখির পাশাপাশি অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনে বিগত ৩১ বছর নির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন লিখিয়েদের বিজ্ঞান সমন্বয় করে কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার এই উদ্যোগ অনেকটা সফলতার দিকে এগিয়ে গেছে। বিজ্ঞান কবিতার অনেক গুলো কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে কবির কবিতায় অসাধারণ তার শব্দ গাথুনি, বাক্যাল্কংর, উপমা, উৎপ্রেক্ষা। তিনি একজন বিজ্ঞান মনস্ক কবি। তার কবিতায় অত্যন্ত সুন্দর বিজ্ঞান সমন্বয় করে কবিতা গুলো লেখা হয়েছে। লেখায়  স্বদেশ ও মানবীয় প্রেম, মানবিকতা, তারুন্যের বিপ্লব বোধ রয়েছে।

কবি জানান, “কাব্যগ্রন্থটি শাহবাগের পাঠক সমাবেশে পাওয়া যাবে। ” কবির এর আগে আরো ৩টি কাব্যগ্রন্থ ও ফরিদপুরের লোকসাহিত্য নামে গবেষণা গ্রন্থ (১৯৮৫) প্রকাশ হয়েছে। প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ হয় যৌথ ভাবে শব্দের আকাঙ্খায় সূর্য -১৯৭২ সালে। পরে চমৎকার সাহস গ্রন্থটি প্রকাশ হয় ১৯৮৫ সালে। দ্বিতীয় একক গ্রন্থ যাই ফিরে যাই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ হয় ১৯৮৯ সালে। তারপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৪ সালে রমনীয় স্বাধীনতা এবং ২০১৭ সালে রূপালী জলের করাত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ হয়। এজন্য কবির অনুভূতিটা অন্যরকম। মাঝখানে বেশ বিরতির পর আবার কবিতার বই প্রকাশ করছেন।

কবির নীরব থাকা শখ, অন্য কিছু পারেন না, তাই ভালবাসার উৎসাহে কবিতা লেখেন, কবিতা বিষয়ে বলেন-ক্ষেত্র বিশেষে কবিতা যুক্তি নির্ভর, কবিরা কবিতা লিখে স্বতন্ত্রভাবে। কবির মতে ভাল লেখা হচ্ছে- যে লেখা আনন্তিম মনে থাকে। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন সবাই কবি; জীবনানন্দ বলেছেন কেউ কেউ কবি, তিনি মনে করেন দুটিই সত্য। বিশ্ব আঙ্গিকে বাংলা কবিতার বর্তমানে সহাবস্থান মনে করেন। বাংলা কবিতায় বিদেশী সাহিত্য এক সময় প্রভাব ফেললেও একবিংশ শতাব্দীতে খুব একটা পড়ছে না। তবে বিদেশী ভাষার কবিতা ও বাংলা কবিতা অনুবাদ, সাহিত্যকে উন্নত করতে পারে এবং যে কোনো ভাষায় কবিতার সঠিক অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাতীয় চেতনা ও বিশ্বজনীন চিন্তা হচ্ছে মানুষকে ভালোবাসা। ব্যক্তি স্বার্থহীন ভাবনা ও মানুষ সত্য তার সার্বিক মুক্তি। বাংলা ভাষা সাহিত্য ও বাঙালীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কবি ও কবিতার মিলন মেলা গড়ে তোলা। কবিতার অবিনাশী মিছিল দেশ দুনিয়ায় এগিয়ে নিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই কবির ইচ্ছা। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পূর্বে ও পরে কবিতায় জাতিসত্তাকে উর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন। উপস্থাপন ও প্রক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলা কবিতার আঙ্গিক দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে আর বিজ্ঞানের সমন্বয় কবিতাকে আরো সমৃদ্ধ করছে। বাংলা কবিতা সমৃদ্ধির পথে সংগ্রহ এবং সংগ্রহশালা ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও অন্তরায় আছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক, স্কাইফি, ওয়াটসঅ্যাপ সহ ডিজিটাল সব পদ্ধতি সাহিত্যকে বিকশিত করা, প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন।

কবির জন্ম ২২ নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে ফরিদপুরের পশ্চিম চর টেপাখোলা। পিতা: শেখ জয়নাল আবেদীন। মাতাঃ কুলসুম বিবি। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। জন্মস্থান :- গ্রাম-পশ্চিম চর টেপাখোলা, থানা-কোতয়ালী, জেলাঃ ফরিদপুর। সংসার : স্ত্রী-শেখ বাবলি হক, পুত্র ঃ শেখ সামিউল হক, কন্যা : অয়ন হক। তিনি মূলত ষাটের দশকের কবি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সম্পাদক। ১৯৬৫ সালে লেখালেখি শুরু করেন ষাটের দশকে। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ চমৎকার সাহস। ১৯৬৭ সালে সরকারী রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশুনা, প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি এবং খেলাঘর আসরের সাথে যুক্ত ছিলেন।  ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) ফরিদপুর শহর কমিটির সভাপতি, ১৯৬৮ ছিলেন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় সারাদেশ সহ ফরিদুপুর শহরে উংরেজী ও উর্দু সাইনবোর্ড, ব্যানার, বিলবোর্ড সহ যাবতীয় বিজ্ঞাপন ভাংগা ও উচ্ছেদ অভিযানের সময়ে আন্দোলনে নেতৃত্বে দেয়ায় সদর থানার টিএসআই মি মোমেন কর্তৃক গ্রেফতার হন। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে আলবদর বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়ে পাকিস্তানীদের শিবিরে বন্দী ও নির্যাতিত হন। তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৬৯-১৯৭৯) ছিলেন। কবি আলাওল পুরস্কারের প্রবর্তকদের মধ্যে একজন। ফরিদপুর জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম। নব্বইয়ে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি- অনুপ্রাস ইউনিটের আহবায়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কবিতা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন