এই মাত্র

মঙ্গলবার | ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ | ২ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৬ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মাত্র » লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীরপথ্য সরবরাহ দরপত্রে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীরপথ্য সরবরাহ দরপত্রে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীরপথ্য সরবরাহ দরপত্রে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

এস বাবু রায় লালমনিরহাট :লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রোগীর পথ্য সরবরাহ দরপত্রে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে সর্বনিন্ম ৮ দরদাতাকে উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ঠিকাদাররা দাবি করছেন। ফলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবার এই অর্থ বছরে পথ্য সরবরাহ ব্যয় বাড়বে ৪ গুণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়মানুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। এতে নির্ধারিত দিনে চলতি বছরের ২২ আগস্ট মোট ৯ জন ঠিকাদার রোগীর পথ্য সরবরাহে দরপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক সর্বনি¤œ এক হাজার ৬৬৫ টাকা, এর পর ইকবাল হোসেন মামুন এক হাজার ৭০৭ টাকা, মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ দুই হাজার ০৪ টাকা, মেসার্স ফাইভ স্টার গার্মেন্টস দুই হাজার ২১৭ টাকা, মেসার্স গোলাম রাব্বানী সোহেল দুই হাজার ৩৫৯ টাকা, মেসার্স মেফতাহুর রহমান দুই হাজার ৭৫৪ টাকা, মেসার্স শেখ ট্রেডার্স দুই হাজার ৮৫২ টাকা, মেসার্স টিটন কন্সট্রাকশন ছয় হাজার ৬৯০ টাকা এবং মেসার্স শাপলা টেইলার্স সর্বোচ্চ সাত হাজার ৭১০ টাকা হিসাবে দরপত্র দাখিল করেন।

ওই দিন দরপত্র খোলার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ফ ম আহসান আলী বাবু পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়ে সেদিনের কার্যক্রম শেষ করেন। কিন্তু কয়েক দিন না যেতেই সর্বনিন্ম দরদাতার পরিবর্তে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে (সাত হাজার ৭১০ টাকা) মেসার্স শাপলা টেইলার্সকে কার্যাদেশ দেন ওই তত্ত্ব্বাবধায়ক। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি দামে রোগীর পথ্য সরবরাহ করবে মেসার্স শাপলা টেইলার্স।

ওই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ৮ জন সর্বনি¤œ দরদাতাকে উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৭১০ টাকায় আবারও ওই মেসার্স শাপলা টেইলার্সকে রোগীর পথ্য সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানই গত বছর মাত্র এক হাজার ৬৬৬ টাকায় রোগীর পথ্য সরবরাহ করেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৪ গুণ দামে ওই প্রতিষ্ঠানকে রোগীর পথ্য সরবরাহের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ফ ম আহসান আলী বাবুকেই দায়ী করেন তিনি।মেসার্স গোলাম রাব্বানী সোহেল নামে ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, এক বছরের ব্যবধানে একই পরিমান রোগীর জন্য কি এমন হলো যে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সর্বনি¤œ ৮ দরদাতাকে উপেক্ষা করে গত বছরের থেকে ৪গুন বেশী মুল্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হলো ? এ ব্যাপারে তিনিসহ অংশ গ্রহনকারী সকল ঠিকাদারবৃন্দ দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারিগর তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ফ ম আহসান আলী বাবুর এই অদ্ভুত টেন্ডার কারিশমা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হোক। তবে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ফ ম আহসান আলী বাবু বলেন, ‘দরপত্র যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ীই ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যেসব ঠিকাদারের দরপত্র বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, তারা কাজ পাননি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’গত বছর যে প্রতিষ্ঠান (মেসার্স শাপলা টেইলার্স) মাত্র এক হাজার ৬৬৬ টাকায় রোগীর পথ্য সরবরাহ করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানকেই এ বছর ৪ গুণ দামে কাজ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী- এমন এক প্রশ্নের সদুত্তর লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ ফ ম আহসান আলী বাবু দিতে পারেননি। তবে তিনি সব কিছুই বিধি অনুযায়ী করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


5 − = 3

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>