শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শনিবার | ২৩ জুন, ২০১৮ | ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ | ৮ শাওয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » শিক্ষা » শিক্ষা প্রতিষ্ঠান » নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল এখন নজরুল একাডেমী

নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল এখন নজরুল একাডেমী

নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল এখন  নজরুল একাডেমী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার জীবনের একটি খন্ডকালীন সময় কাটিয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। কবি নজরুল ইসলাম এই এলাকায় থাকাকালীন উক্ত বিদ্যালয়ে দু’বছর লেখাপড়া করেছেন। কবির স্মৃতি বিজড়িত এই বিদ্যালয়টিকে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯০, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনবার সরকারিকরণের ঘোষণা দেওয়া হয় । সে সময় সরকারিকরণের কিছু কাজ হলেও পরে  আর তা বাস্তবায়ন হয়নি । চলতি বছর বিদ্যালয়টি শতবর্ষে পদার্পন করেছে কবির স্মৃতির সাক্ষী হয়ে । জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠানটির সামনে নজরুলের কিশোর বয়সের ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি ।

১৯১৩ সালে ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর গ্রামের কিছু সংখ্যক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এ বিদ্যাপাঠটি প্রতিষ্ঠা করেন। যাদের মধ্যে হাজি মেহের আলী মৃধা অন্যতম । প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান বাবু বিপিং চন্দ্র চাকলাদার। তখন কলিকাতার অধীন ছিল। বর্তমানে বিদ্যলয়টি ৬ একর ১৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ।

১৯১৪ সালে উপজেলার কাজী শিমলা গ্রামের দারোগা রফিজ উল্লাহ কবি নজরুলকে তত্কালীন দরিরামপুর হাই স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করান । তখন এটি ছিল টিনশেড ঘর । নজরুলের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে এই বিদ্যালয়টি যুগযুগ ধরে দাড়িয়ে আছে। চলতি স্কুলটি শতবর্ষে পর্দপন করেছে । নজরুলের অনেক স্মৃতির সাক্ষী এই দরিরামপুর হাইস্কুল । স্কুলটি শুরু থেকে ভাল পড়াশুনা এবং ভাল ফলাফলের  কৃতিত্বের কারনে  এবং জাতীয় কবিকে লালনের জন্য দেশের এতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্তীকৃতি লাভ করেছে ।

১৯৬৪ সাল থেকে এটি নাম পরিবর্তন করে নজরুল একাডেমী নামধারণ করে । কবি জীবিত থাকা অবস্থায় এবং জাতীয় কবি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই ১৯৬৫ সাল থেকে এই বিদ্যালয় মাঠে ঝাক-ঝমকভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন শুরু হয় ।

১৯৬৫ ইং সালে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক পি.এ.নাজির ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তীর সূচনা করেন । ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল অংশের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান জানান, আমরা ১৯৬৪ তে স্কুলের নাম পরিবর্তন করে নজরুল একাডেমী করি । ১৯৯০ সালে এই স্কুল মাঠে রাষ্টীয়ভাবে জন্মজয়ন্তী পালন শুরু হয় । তত্কালীন রাষ্ট্রপতি এইচ.এম. এরশাদের  প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারের পতন হওয়ায় এটি আর বাস্তবায়ন হয়নি । ১৯৯১ সালে তত্কালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই স্কুলটি আবার সরকারিকরণের ঘোষণা দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি । ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল হক আবার এটি সরকারি করণের ঘোষণা দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, কবি নজরুলের ব্যবহূত এবং যে ক্লাশে বসে ক্লাশ করেছেন সে কক্ষ দু’টি সংরক্ষিত আছে । যুগ যুগ ধরে এটি নজরুলের স্মৃতি বহন করবে । কিন্তু কবির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য এ স্কুলটি জাতীয়করণের দাবি এলাকাবাসীর।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন