Azizul Bashar
একুশে বইমেলা

বৃহস্পতিবার | ২৪ মে, ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ | ৭ রমযান, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অমর একুশে » একুশে বইমেলা » আজ অমর একুশে বইমেলায় নাজমা আক্তারের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন


আজ অমর একুশে বইমেলায় নাজমা আক্তারের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আজ অমর একুশে বইমেলায় নাজমা আক্তারের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

মাসুম বিল্লাহ: আজ শুক্রবার বিকাল ৩:০০ টায় বই মেলার ‘মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ’, সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে এবারের অমর একুশে বই মেলা ২০১৮ তে  জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল বিসিসিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক নাজমা আক্তারের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে। বইমেলা-২০১৮ তে প্রকাশিত তিনটি  বইয়ের দুটি-ই উপন্যাস ১.অসমাপ্ত ২.বৈপরিত্য এবং একটি ছোট গল্পের বই: নোনাজলে বসতবাড়ী।

তিনটি বই-ই জনপ্রিয় প্রকাশনী অন্যধারা প্রকাশ করেছে। অন্যধারার ৬১৬ ও ৬১৭ নং স্টলে বই তিনটি পাওয়া যাবে। প্রচার বিমুখ এ লেখিকার লেখালেখি শুরু অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়ন কালেই। লিখেছেন অনেক কবিতা, ছোট গল্প ও উপন্যাস। কিন্তু বই আকারে প্রকাশ করাটা কেন জানি এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু এবার আর এড়িয়ে যাওয়া না, প্রকাশ করলেন দুটি উপন্যাস, ও একটি ছোট গল্প। লেখিকা মূলত বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন উপন্যাস রচনাতেই। “অসমাপ্ত” তার রচিত অসাধারণ উপন্যাস। মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের দু:খ-বেদনা ও এই পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন যুবকের আত্নপ্রত্যয়ের কথা এই উপন্যাসের মুল আলেখ্য বিষয়। দ্বিতীয় উপন্যাস “বৈপরিত্য” তে প্রকাশ পেয়েছে সংসার হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষের অন্তর জুড়ে সীমাহীন হাহাকার । অতৃপ্ত গোঙ্গানি আর না পাওয়ার বিলাপ। নারীদের ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি প্রকট । কারণ যুগে যুগে নারীরাই সংসারে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার । দুটি চরিত্রের দ্বন্দের মধ্য দিয়ে চিরাচরিত বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহের মূলকে ধরতে চেয়েছেন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে নির্লিপ্ততাকে দায়ী করেছেন সূক্ষভাবে। ছোট গল্প রচনায় বলতে গেলে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন এই লেখিকা নাজমা আক্তার । “নোনাজলে বসতবাড়ী” ছোট গল্পের বইটিতে নাম ভূমিকা গল্পটি ছাড়াও আত্নসমালোচনা, আমি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাইনা, মহাপরায়ানা, রোশান, পোকা, পূজিঁবাদী ভালোবাসা ও অন্যান্য অনেক গল্প রয়েছে । বইগুলোতে পাঠক ভিন্নধারার বিশ্লেষণ পাবেন বলে লেখিক বিশ্বাস করেন।

 

বই তিনটির সংক্ষিপ্ত আলোচনা

উপন্যাস-অসমাপ্ত

নাজমা আক্তার প্রবাসী বাঙ্গালী। জীবনের একটা বড় অংশ কানাডা ও আমেরিকায় পার করলেও তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশেই। জীবনে দেখেছেন অনেক। পড়েছেনও প্রচুর। লেখালেখিতে একটু দেরী করে এলেও সাবধানে পা ফেলেছেন সর্বত্র। গল্প, কবিতা, উপন্যাস। সব রচনায় সিদ্ধ হস্ত এই লেখিকা মূলতঃ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন উপন্যাসেই। জীবনের প্রতি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করা এই লেখিকা যুদ্ধ এবং ক্ষতি উভয় সময়কেই পর্যবেক্ষন করেছেন একান্ত ব্যক্তিগত দর্শনে। অসমাপ্ত তার লেখা অসাধারণ এক উপন্যাস যেখানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে এর সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলোর ছোট বড় সব দু:খ বেদনার অনুভূতিগুলো ধারণ করেছেন অসাধারণ এক স্বকীয়তায়। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জোহান সময়ের এবং বাস্তবতার শিকার এক যুবক যে তার বুকের গভীরে লালিত সবগুলো স্বপ্নকে আলগোছে লুকিয়ে রাখে। সময়ের হাত ধরে কাহিনী আগায় বটে তবে তা চলমান জীবনের ধর্মের মতেই এক সমাপ্তের মধ্যেই অসমাপ্ত পরিনতির দিকে এগিয়ে যায়। উপন্যাসে জোহানের পৃথিবী তার দাদীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর এই বাস্তবতাই তাকে আর দশজনের থেকে অনেকটাই আলাদা করে তোলে, লেখিকা তার তীব্র পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিয়ে চরিত্রগুলোর অর্ন্তদ্বন্ধকে ধরতে চেয়েছেন। আশাকরি বিদগ্ধ দর্শকদের উপন্যাসটি ভালো লাগবে।

 উপন্যাস-বৈপরিত্য

সংসার হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে মানুষের অন্তর জুড়ে সীমাহীন হাহাকার। অতৃপ্ত গোঙ্গানি আর না পাওয়ার বিলাপ। নারীদের ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি প্রকট। কারণ যুগে যুগে নারীরাই সংসারে সবচেয়ে  বেশী বঞ্চনার শিকার। ’বৈপরিত্য’ উপন্যাস  লেখিকা নাজমা আক্তারের এক অনবদ্য সৃষ্টি। আকৃতিতে ছোট হলেও ধারালা এই রচনায় তিনি উপন্যাসের প্রধান দুটো চরিত্রের দ্বন্দের মধ্য দিয়ে চিরাচরিত বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাত্রী আর মহিন। লেখিকা কাহিনী বর্ননায় রাত্রীকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। লেখিকাকে আপত-দৃষ্টে নারীবাদী মনে হতে পারে কিন্তু মূলত: লেখিকা এতো সংকীর্ন কিছু প্রতিষ্ঠিত করতে চান নি। তিনি মূলত: ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহের মূলকে ধরতে চেয়েছেন ভালোবাসার ক্ষেত্রে নির্লিপ্ততাকে দায়ী করে। আর এই কষ্টসাধ্য কাজটি করতে গিয়ে লেখিকাও বার বার গলদঘর্ম হয়েছেন। আর এখানেই উঠে এসেছে সমাজ আর পরিবারের চার দেয়ালের আড়ালে ঘটে যাওয়া নির্মম আর নির্জলা বাস্তবতা যা সাধারণত কেউই গুরুত্ব দেয় না। একটি  ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস “বৈপরিত্য” দর্শকরা আগাগোড়াই উপভোগ করবেন। সেই সাথে প্রতিটি লাইনেই পাবেন ভাবনার খোরাক।

 ছোটগল্প – নোনাজলে বসতবাড়ী

ছোট গল্প রচনায় সমসাময়িক সাহিত্যিকদের দূর্বলতা যখন প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তখনই এরকম একটা শক্ত বিষয়ে বলতে গেলে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সময়ের সিদ্ধহস্তে লেখিকা নাজমা আক্তার। ছোটগল্পের যে আঙ্গিক আর বৈশিষ্ট্য পুরো মাত্রাই ধরে রেখে জীবনে টুকরো টুকরো ঘটনাবলী নিয়েই তিনি সাজিয়েছেন তার এই গল্পের সম্ভার।বইটিতে ‘আত্মসমালোচনা, আমি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না, মহাপরায়ানা, রোশান, পোকা,পূঁজিবাদী ভালবাসা এর মতো ধারালো আর চমকপ্রদ গল্প থাকলেও ‘নোনাজলে বসতবাড়ী’ এর মত গল্পকে তিনি বইয়ের শিরোনাম করেছেন। এর পিছনেও রয়েছে অন্যরকম এক সামাজিক দায়বদ্ধতা। কারণ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন একজন ভিক্ষুক। গল্পের প্লট পছন্দে লেখিকা সামাজিক এবং মানসিক প্লাটফর্মকে বেছে নিলেও রূপকের ব্যবহারে একে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনতে লেখিকার এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলতে হয়। চমকপ্রদ কাহিনীই নয় অনেক সময় বর্ণনার চমৎকারিত্বেই দাঁড়িয়ে গেছে পুড়ো গল্পটা। লেখিকার সার্থকতাও এখানেই। ভূয়োদর্শী এই লেখিকা তার জীবনের  দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে অতি সামান্য অংশই ঢেলে দিয়েছেন। আর তাতেই প্রতিটি গল্প পেয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতা। আমরা আগামী দিনে লেখিকার কাছ থেকে আরও চমৎকার সব সমৃদ্ধ ছোটগল্প পাবো এই প্রত্যাশা রাখতে পারি।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাজমা আক্তার ১৯৭৭ সালে ৩ নভেম্বর পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার ভবানীপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো: আইউব আলী হাওলাদার পেশায় একজন সরকারী শিক্ষক, মাতা রহিমা বেগম একজন গৃহিনী।

তিনি ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতোকত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইর্য়ক ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৮ সালে পাবলিক পলিসি ও এডমিনিস্ট্রশনের উপর স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। একযুগের অধিক সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত উৎর্কষতায় কানাডার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দেড়যুগের অধিক সময় কানাডায় অবস্থান করেন।

তিনি ঢাবি’র রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এলামনাই এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে চলেছেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য শেরে-বাংলা সম্মাননা স্বারক ২০১৪ ও অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি বর্তমানে জনপ্রিয় অনলাইন বিসিসিনিউজ২৪ ডটকম-এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

লেখিকা এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। তার জীবনসঙ্গী মো: নজরুল ইসলাম কানাডিয়ান ব্যাংকে সিনিয়র বিজনেস আইটি এনালিষ্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন