আবাসন খবর

সোমবার | ২৩ জুলাই, ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ, ১৪২৫ | ৯ জিলক্বদ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » আবাসন খবর » এক জায়গা থেকে সেবা চায় রিহ্যাব

এক জায়গা থেকে সেবা চায় রিহ্যাব

এক জায়গা থেকে সেবা চায় রিহ্যাব

বেসরকারি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিতে হবে। এই খাতের প্রকল্পভুক্ত জমিতে সরকারি জমি আছে কি-না- তা যাচাই করে ওই ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে আবাসন কোম্পানি মালিকদের সংগঠন রিহ্যাব সমন্বিতভাবে একটি জায়গা থেকে প্রকল্প-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা চায়।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এরই মধ্যে এক জরিপে গাজীপুর জেলায় ১১টি কোম্পানির প্রকল্পে ২১৬ একর ৬৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি অন্তর্ভুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, কোনো আবাসন কোম্পানি বেআইনিভাবে সরকারি জমিতে বাড়ি তৈরি করতে পারে না। কেউ যদি সরকারি জমি দখল করে থাকে তাদের কাছ থেকে অবশ্যই জমি ফেরত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাড়ি ভেঙে দেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, শিগগির এ নিয়ে একটি সভা করা হবে। আবাসন প্রকল্পে সরকারি জমি থাকলে তা উদ্ধার ও ভবিষ্যতে যাতে কারও প্রকল্পে সরকারি জমি না থাকে তার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)  সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন বলেন, যারা বেআইনিভাবে সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ করছেন এর দায়-দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। এ নিয়ে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে রিহ্যাব ওইসব উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াবে না। তিনি আরও বলেন, আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান নানা সমস্যা সমাধানে সরকারকে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে সেবা দিতে হবে। বর্তমানে নানা মন্ত্রণালয়, দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সূত্র জানায়, সারাদেশের আবাসন প্রকল্পে সরকারি খাস, অর্পিত, পরিত্যক্ত ও সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি আছে কি-না তা যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি-১ শাখা থেকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পেয়ে গাজীপুরের ডিসি ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর প্রাথমিক এক জরিপে ১১ কোম্পানির প্রকল্পে ২১৬ একর ৬৩ শতাংশ সরকারি জমি পান। পরে ডিসি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠান ভূমি সচিবের কাছে।

গাজীপুরের ওই জমি উদ্ধারে শিগগির ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের সভাপতিত্বে বৈঠক হবে। সভায় গাজীপুরের ডিসি ও সংশ্নিষ্ট ১১ কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ডাকা হবে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও ভূমি সচিব আবদুল জলিল এতে উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩-৪টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে একটি প্রকল্পের অনুমোদন নিতে হয়। এতে সংশ্নিষ্ট উদ্যোক্তাদের একদিকে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। অন্যদিকে নানা হয়রানি, ভোগান্তি ও অর্থ খরচের শিকার হচ্ছেন তারা। ঢাকা মহানগরের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল হাউজিং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আলাদাভাবে অনুমোদন নিতে হয়। ঢাকার বাইরে সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসক, পৌরসভা মেয়র ও প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের অনুমোদন লাগে। যা সময়সাপেক্ষ ও ভোগান্তির কারণ।

এই অবস্থায় মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর সমন্বয়ে একটি জায়গা থেকে সব ধরনের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তরা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন