Azizul Bashar
এই মাত্র

বৃহস্পতিবার | ১৬ আগস্ট, ২০১৮ | ১ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৪ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মাত্র » লালমনিরহাটে রোহিঙ্গা গুজব , জনমতে আতংক

লালমনিরহাটে রোহিঙ্গা গুজব , জনমতে আতংক

লালমনিরহাটে রোহিঙ্গা গুজব , জনমতে আতংক

এস বাবু রায় লালমনিরহাট :লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নারীদের এক ধরণের স্প্রে করে অজ্ঞান করে ধর্ষন করছেন বলে গুজব ছড়িয়েছে। এমন গুজবে জেলার গ্রাম অঞ্চলে লোকজনের মাঝে অতংক বিরাজ করছে। অপরিচিত বা পাগল লোক দেখলেন গ্রামবাসী তাদের আটক করে গণ-ধোলাই দিচ্ছে। তবে এলাকায় রোহিঙ্গা এসেছে এমন খবরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, একটি মহল এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে চুরি, ছিনতাই বা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতেই এই গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় রবিবার জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ ও পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের উপস্থিতিতে জন সচেতনতা মুলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, কয়েক দিন আগে এলাকায় রোহিঙ্গা বের হয়েছে এমন একটি ঘটনার সুত্রপাত জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার হাজরানীয়া এলাকা থেকে। ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, জনৈক এক মহিলা মধ্য রাতে প্রকৃতির ডাকে বাহিরে বের হলে একটি মানুষকে দেখে চিৎকার দেয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে এক পাগলকে আটক করে। মুর্হুত্বের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায় রোহিঙ্গা এসেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান। পরে তারা ওই পাগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এর কিছুক্ষন পর হাতীবান্ধা উপজেলার জোসনার বাজার এলাকায় রোহিঙ্গা সন্দেহে ৬ জনকে আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে জানতে পারেন আটক ওই ৬ জনের ৩ জন রংপুর গঙ্গাচড়া সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ৩ জন রংপুরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক। এর একদিন পর হাতীবান্ধা উপজেলার মিলনবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা সন্দেহে একজন পাগলকে গণ ধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা। তবে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রোহিঙ্গা এসেছে এমন গুজবের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ বিভাগ নড়েচড়ে বসে। তারা প্রতিনিয়ন জেলার ৫ উপজেলায় স্থানীয় লোকজনের সাথে মত বিনিময় করে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানান, এলাকায় রোহিঙ্গা এসেছে এমন খবরের কোনো সত্যতা নেই। এটা পরিকল্পিত গুজব মাত্র। একটি মহল এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে চুরি, ছিনতাই বা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতেই গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, রোহিঙ্গা হলো বিশ্বের সব চেয়ে বেশি নির্যাতিত ও অবহেলিত মুসলমান। তারা আমাদের চেয়ে বেশী ধর্মভীরু ও তাদের ভাষা ভিন্ন। তারা জীবন বাঁচাতে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তারা কক্সবাজার এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সীমানার মাঝে আছেন। বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি দুই একজন বাহিরে আসেন তাদের ভাষা ভিন্ন হওয়ার কারণে তারা প্রশাসনের কাছে আটক হচ্ছেন। কক্সবাজার থেকে লালমনিরহাট এসে রোহিঙ্গারা অপকর্ম করবেন এটা সম্পুর্ণ গুজব ছাড়া কিছুই নয়।

 

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন