প্রধান খবর

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » প্রধান খবর » বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ছিল দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ছিল দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ছিল দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা: প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু সংগ্রাম করে গেছেন। তার সংগ্রাম ছিল এ দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল সে বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বার বার জেল খেটেছেন, বারবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক ১৪ খণ্ডের বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার  বিকেলে গণভবনে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিয়মিত কার্যক্রম পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা-পিআইবি প্রতিদিন পাকিস্তান সরকারকে অবহিত করতো। সেই সব প্রতিবেদন স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর নথিতে সংরক্ষিত ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই সব প্রতিবেদন সংকলন শুরু হয়।

প্রায় ৪০ হাজার পৃষ্ঠার সেই সব প্রতিবেদন পাঠযোগ্য করে ১০ হাজার পৃষ্ঠায় ১৪টি খন্ডে প্রকাশ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্যা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিরোনামে গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের প্রকাশ হয় আজ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে তার কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, সে নাম আজ বিশ্বের মানুষের মুখে মুখে। সত্যকে কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া যায় না। জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বের অন্যতম ভাষণ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বইটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষণ আন্দোলন সম্পর্কিত অনেক অজানা তথ্যের সন্ধান মিলবে। যা সঠিক ইতিহাস জানতে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে। কারণ, এটা জাতির পিতার বিপরীত চিন্তার মানুষের কাজ। অর্থাৎ পূর্বপাকিস্তান সরকারের ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ (ইবি) ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যেসব রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ করেছেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতী মানুষের কল্যাণে তিনি কী কী করেছেন। মানুষের মুক্তির জন্য তিনি দেশব্যাপী কী কী কর্মসূচি করেছেন ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ লিপিবদ্ধ করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই রিপোর্ট তো জাতির পিতার বিরুদ্ধে তবে কেন আমরা প্রকাশ করতে গেলাম। খুব স্বভাবতই এমন প্রশ্ন আসতে পারে। আমি এজন্যই করেছি যে, বিরুদ্ধ মতের মানুষেরা বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে নজরদারিতে রেখেছে, তাদের দৃষ্টিতে জাতির পিতা কোন কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। কী কী আন্দোলন করেছেন। এটা পড়ার পর কোনো মানুষের মনে সংশয় থাকবে না।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে এমন নজির নেই যে বিরুদ্ধ পক্ষের তথ্য দিয়ে বই রচনা করে। আমি মনে করি এই বইটি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনায় আকড় গ্রন্থ হিসেবে কাজ করবে। এসময় বইটির বিভিন্ন অংশের উদ্ধৃতি তোলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সতীর্থ সাহিত্যিক বেবী মওদুদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বন্ধু বেবী মওদুদ মিলে দীর্ঘদিন ধরেই এ কাজটি করছিলাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানা, বোনের ছেলে ববীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি যখন খবর পাই যে স্পেশাল ব্রাঞ্চের সংগ্রহ শালায় এমন নথি আছে তখন সেখানে যাই। দেখি কী অবস্থায় আছে এসব নথিগুলো। তখন আমার সহকর্মীরা বলেছিল, স্যার এটা বোধহয় করা সম্ভব হবে না। কারণ ময়লা ধুলাবালি আর কাগজের স্তুপ। সেখানে কাজ করতে গিয়ে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লোবস পরে কাজে হাতে দেই। এক পর্যায়ে গিয়ে একটা বান্ডেল পাই।’

আইজিপি বলেন, ‘কী পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যে নথিগুলোকে উদ্ধার করি তা বলে বোঝানো যাবে না। কাগজে হাত দেওয়ার পর বিস্কুটের মতো ভেঙে যেতো। আর্কাইভের স্পেশালিস্টদের যুক্ত করি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে কাজটি করি।’

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে অনেক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছি কিন্তু আজকের মতো এমন দুর্লব বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এই প্রধম করলাম। এত পরিশ্রম করে এমন অপূর্ব বই পৃথিবীর আর কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি এই বইটি না হলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনা সম্ভব হতো না।’

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন